উৎপাদক ও ভোক্তার বন্ধনে হলিডে হাট


উৎপাদক ও ভোক্তার বন্ধনে হলিডে হাট
আমাদের সময় ডেস্ক : সমবায় হলিডে হাট উৎপাদক ও ভোক্তার বন্ধনে আবদ্ধ। এখানে ভোক্তাদের সঙ্গে পাইকারি, আড়ৎদার, খুচরা বিক্রেতা, এবং মধ্যস্বত্বভোগী বা সিন্ডিকিটের কোনো সম্পর্ক নেই। সরাসরি উৎপাদকদের কাছ থেকেই তারা কিনতে পারছেন। সেজন্যই সব কিছুর দাম সাধারণ মানুষের নাগালের ভেতরে। উৎপাদক যেমন পান ন্যায্যমূল্য, তেমনি ক্রেতারাও সস্তা দামে কিনে হন মহা খুশি।


সমবায় অধিদফতরের তত্ত্বাবধানে পরিচালিত ঢাকার আগারগাঁওস্থ সমবায় অধিদফতর সংলগ্ন প্রাঙ্গণে (পঙ্গু হাসপাতালের বিপরীতে) ২ ফেব্র“য়ারি থেকে শুরু হয়েছে এ হলিডে হাট। হাটটি সপ্তাহের প্রতি বৃহস্পতি, শুক্র ও শনিবার সকাল ৮টা থেকে বিকাল পর্যন্ত খোলা থাকছে। সাধারণত ক্রেতারা যেসব কাঁচা সবজি ক্রয় করেন, সেগুলো অনেক হাত বদলের পর তাদের হাতে আসে। ফলে ভোক্তাদের কিনতে হয় বেশি দামে। আবার চাষীরাও পান না তাদের উৎপাদিত মূল্য। হাত বদলের সঙ্গে সঙ্গে বাড়তে থাকে পণ্যের দাম। এ হাটে হাত বদলের সুযোগ না থাকায় দাম বাড়ারও সুযোগ নেই।

ইস্ট এশিয়া ফাইন্যান্স অ্যান্ড কমার্স-এর ফিল্ড অফিসার আশরাফুল আলম বলেন, সমবায় অধিদফতরের তত্ত্বাবধানে আমরা সমবায় হলিডে হাটে কাঁচামরিচ বিক্রি করি ২৫ টাকা কেজি দরে। বাইরে এর দাম ৫০ টাকা, টমেটো বিক্রি করি ৬ টাকা কেজি দরে, বাইরে এর দাম ২০ টাকা। তাছাড়া শিম বিক্রি করি ১৬ টাকা কেজি দরে, বাইরে যার দাম ৩০ টাকা। এভাবে অধিকাংশ সবজির দাম প্রায় অর্ধেক। যেমন বেগুন পাওয়া যায় মাত্র ৬ টাকা কেজিতে। কীভাবে এত সস্তা দামে দিচ্ছেন জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমরা সব মালামাল সরাসরি ক্ষেত থেকে নিয়ে আসি। তাছাড়া কোনো পাইকারি বা খুচরা বিক্রেতার হাতে যায় না। আমরা সরাসরি ক্রেতাদের হাতে তুলে দিই।

জয়পুরহাট থেকে আসা রিকশাচালক আবুল কালাম হলিডে হাটে বাজার করে যে মহাখুশি, তা তার চোখ-মুখের অবয়ব দেখে বোঝা যায়। তিনি বলেন, একান থিনে আমবাগুন (টমেটো) নিনু (নিলাম) ১ কেজি ৮ ট্যাকায়, যা বাইরে নিনুহুনি (নিতো) ১৫ ট্যাকা। আজমপুর উত্তরা ৬নং সেক্টরের নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যাদি ক্রেতা-বিক্রেতা বহুমুখী সমবায় সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো. আনোয়ার হোসেন বলেন, আমরা মশুর ডাল বিক্রি করি কেজি প্রতি ৮৫ টাকায়, কিন্তু বাইরে এর দাম ৯৫ টাকা। শিং মাছ ৭০০ টাকা, যা সমবায় হলিডে হাট ছাড়া অন্য কোনো বাজার থেকে কিনলে দাম পড়বে ৯০০ টাকা। রুই মাছ ১৫০ টাকা কেজি, এর বাইরের দাম ২০০ টাকা।

আনোয়ার হোসেন আরও বলেন, আমরা মাছগুলো সরাসরি সাতক্ষীরা ও ভৈরব থেকে নিয়ে আসি এবং সরাসরি ক্রেতাদের হাতে তুলে দিই বলেই সস্তা দামে দিতে পারি। হলিডে হাটে সব কিছু স্বল্পমূল্যে পাওয়ার আরেকটি কারণ, এখানে কোনো কর দিতে হয় না। কারণ, জায়গাটি সমবায় অধিদফতরের।

আল্লাহ হলিডে হাটকে যেন দীর্ঘজীবী করেন, বলছিলেন স্বল্প আয়ের মহিলা আমেনা খাতুন। তিনি বলেন, এমনিতে চারদিকে দ্রব্যমূল্যের প্রতিযোগিতা। কিন্তু এখানে সেটি নেই। এছাড়া অনেক ব্যবসায়ী আছেন, যারা বিবেকে ফরমালিন দিয়ে বিক্রি করেন ফরমালিনযুক্ত মাছ। কিন্তু বিবেকে ফরমালিন দেয়া ব্যবসায়ী এখানে নেই। বলা চলে, এখানকার সবাই সাচ্চা চাষী। দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির এ যুগে তাই ক্রেতারা এখানে এসে অন্তত স্বস্তির নিশ্বাস ফেলতে পারবেন বলেও তিনি মনে করেন।

স্থানীয় সরকার পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী অ্যাডভোকেট জাহাঙ্গীর কবির নানক উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বলেছেন, হলিডে হাটে যদি কেউ এক কাপ চা খেতে চান, তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে। প্রতিমন্ত্রীর কাছে ক্রেতারা আরও দাবি করেছেন, সরকারি দলের নাম ভাঙিয়ে যেন কেউ এখানে চা খাওয়ার টাকার অন্বেষণ না করেন। ক্রেতা-বিক্রেতা যেন স্বস্তিতে ক্রয়-বিক্রয় করতে পারেন।

সমবায়ীদের উৎপাদিত পণ্যসহ বিভিন্ন স্থানের বিখ্যাত পণ্যদ্রব্য, চাল, ডাল, তেল, আটা, দুধ ও দুগ্ধসামগ্রী, শাক-সবজি, মাছ, মাংস, আলু, পেঁয়াজ, রসুন ও যাবতীয় নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য মেলে সমবায় হলিডে হাটে । সমবায় হলিডে হাট পর্যায়ক্রমে ঢাকা শহরের আরও ৯১টি স্থানে খুব শিগগরিই খোলা হবে বলেও জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী জাহাঙ্গীর কবির নানক।

0 Response to "উৎপাদক ও ভোক্তার বন্ধনে হলিডে হাট"

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

Powered by Blogger