সমবায় সমিতির শাখা খোলা ও ব্যাংক নাম দেয়ায় নিষেধাজ্ঞা


সমবায় সমিতির শাখা খোলা ও ব্যাংক নাম দেয়ায় নিষেধাজ্ঞা

সৈয়দ সামসুজ্জামান নীপু
শাখা খুলতে পারবে না সমবায় সমিতি। আগামীতে একমাত্র বাংলাদেশ সমবায় ব্যাংক ছাড়া অন্য কোনো সমবায় সমিতিকে শাখা খুলতে দেয়া হবে না। শুধু তাই নয়, কোনো সমবায় সমিতির সাথে ‘ব্যাংক’ ‘কমার্স’ ‘ইনভেস্টমেন্ট’ ‘কমার্শিয়াল ব্যাংক’ বা সমার্থক শব্দ জুড়ে দেয়া হলে তাকে সমবায় সমিতি নামে নিবন্ধন দেয়া হবে না। এখন যারা এই নামে সমবায় সমিতি চালিয়ে যাচ্ছেন তাদেরও এই নিয়ম মেনে চলতে হবে। যদি কেউ এই নিয়ম লঙ্ঘন করে তাহলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে সাত বছরের কারাদণ্ড বা ১০ লাখ টাকা অর্থদণ্ড বা একই সাথে উভয় দণ্ডই প্রদান করা হবে। বিদ্যমান সমবায় সমিতি আইন, ২০০২ সংশোধন করে এই শাস্তির প্রস্তাব করা হয়েছে। প্রস্তাবিত আইনটির নামকরণ করা হয়েছে, ‘সমবায় সমিতি (সংশোধন) আইন, ২০১২’। সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে প্রণীত সংশোধনীর খসড়ায় এ কথাগুলো বলা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট এক সূত্র জানিয়েছে। 
সংশোধনীতে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ সমবায় ব্যাংক ছাড়া কোনো সমবায় সমিতি তার সমিতির সদস্য ছাড়া অন্য কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে আমানত গ্রহণ করতে পারবে না বা ঋণ দিতে পারবে না। কোনো সমবায় সমিতি একাধিকক্রমে দুইটি সাধারণ সভা অনুষ্ঠিত না করতে পারলে বা একাধিকক্রমে দুইটি সাধারণ সভায় কোরাম পূর্ণ না হলে সেই সমিতিকে অবসায়ন ও বিলুপ্ত ঘোষণা করা হবে। 
সূত্র জানায়, বিদ্যমান আইনে বর্তমানে সমবায় অধিদফতরের শীর্ষ কর্মকর্তা হিসেবে একজন ‘নিবন্ধক’ রয়েছেন। সংশোধিত আইনে নিবন্ধককে ‘মহাপরিচালক’ হিসেবে গণ্য করা হবে। প্রস্তাবিত সমবায় আইনের সংশোধনীর ৩ অধ্যায়ে নিবন্ধন শিরোনাম ‘চ’-তে ব্যাংক শব্দ ব্যবহার প্রসঙ্গে বলা হয়েছে,‘এই আইন জারির পর সমবায় আইনের অধীনে নিবন্ধিত প্রাথমিক সমবায় ভূমি উন্নয়ন ব্যাংক, কেন্দ্রীয় সমবায় ভূমি উন্নয়ন ব্যাংক এবং বাংলাদেশ সমবায় ব্যাংক ছাড়া অন্য কোনো প্রাথমিক, কেন্দ্রীয় বা জাতীয় সমবায় সমিতির নামের সাথে বা এর অংশ হিসেবে ব্যাংক শব্দ ব্যবহার করে নিবন্ধন করা যাবে না। কোনো সমবায় সমিতি এরূপ শব্দযুক্ত (ব্যাংক) নামে নিবন্ধিত হয়ে থাকলে এই আইন জারির পরবর্তী তিন মাসের মধ্যে তার নাম সংশোধন করতে হবে। 
প্রস্তাবিত সংশোধনীর ‘ছ’তে বলা হয়েছে, ‘কোনো সমবায় সমিতি ব্যাংক কোম্পানি (সংশোধন) অধ্যাদেশ,২০০৭-এর শর্তাবলী অনুযায়ী বাংলাদেশ ব্যাংকের পূর্বানুমোদন ছাড়া ব্যাংকিং ব্যবসা করতে পারবে না।’ ‘জ’তে বলা হয়েছে, ‘বাংলাদেশ সমবায় ব্যাংক ছাড়া কোনো সমবায় সমিতি তার কার্যক্রম পরিচালনার জন্য কোনো শাখা খুলতে পারবে না। কোনো সমবায় সমিতির শাখা অফিস খোলা হলে এই আইন জারি হওয়ার তিন মাসের মধ্যে এই শাখা বন্ধ করে দিতে হবে।’ ঝ-তে বলা হয়, কোনো ব্যক্তি এই আইনের উপধারা ১(চ), ১(ছ) ও ১(জ)-এর বিধান লঙ্ঘন করলে তাকে সাত বছর কারাদণ্ড এবং অন্যূন ১০ লাখ টাকা অর্থদণ্ড বা উভয় দণ্ড ভোগ করতে হবে।
প্রস্তাবিত সংশোধনীতে উল্লেখ করা হয়েছে, সমিতির ‘সদস্য’ বলতে কোনো সমবায় সমিতির শেয়ার হোল্ডার সদস্যকেই বোঝাবে। তবে শর্ত থাকে যে, একই ব্যক্তি একই সাথে একই প্রকারের একাধিক সমিতির ব্যবস'াপনা কমিটির সদস্য হতে পারবেন না। সমবায় সমিতির ক্ষেত্রে কোম্পানি আইন এবং মাইক্রো ক্রেডিট রেগুলেটরি অথরিটি আইনের প্রয়োগ নিষিদ্ধ করার কথা বলা হয়েছে প্রস্তাবিত সংশোধনীতে। 
সংশোধনীতে বলা হয়, নিবন্ধনকালে সমবায় সমিতির প্রত্যেক সদস্য অন্তত একটি শেয়ার অভিহিত মূল্যে (ফেস ভ্যালু) ক্রয় করতে পারবেন। পরর্তী সময় নতুন সদস্যপদ লাভের ক্ষেত্রে বা অতিরিক্ত শেয়ার ক্রয়ের ক্ষেত্রে ব্যবস'াপনা কমিটি কর্তৃক অথবা কোনো কোনো ক্ষেত্রে নিবন্ধক কর্তৃক নির্ধারিত শেয়ারের বাজারমূল্য (মার্কেট ভ্যালু) অর্থাৎ শেয়ারের নির্ধারিত মূল্য অথবা ক্ষেত্র বিশেষে শেয়ারের পুনর্নির্ধারিত মূল্য হিসেবে সমিতিকে প্রদান করবে, যা সমিতির নিজস্ব মূলধন হিসেবে পরিগণিত হবে। 
বর্তমান আইনে বলা হয়েছে, কোনো ব্যক্তি কোনো সমবায় সমিতির মোট শেয়ারের এক-পঞ্চমাংশের বেশি শেয়ার কিনতে পারবেন না। প্রস্তাবিত সংশোধনীতে তা পরিবর্তন করে বলা হয়েছে, কোনো সদস্য বা ক্ষেত্রমতে সমিতি কোনো সমবায় সমিতির মোট শেয়ার মূলধনের এক পঞ্চমাংশের অধিক শেয়ার ক্রয় করতে পারবেন না। 
সংশোধনীতে কারাদণ্ড বা উভয়দণ্ড দেওয়ানি অথবা ফৌজদারি আদালতের মাধ্যমে বাস্তবায়ন বা কার্যকর করা হবে বলে বলা হয়েছে। 
শিগগিরই সংশোধনীগুলো চূড়ান্ত করে মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে অনুমোদনের জন্য উত্থাপন করা হবে বলে সূত্র জানিয়েছে।

0 Response to "সমবায় সমিতির শাখা খোলা ও ব্যাংক নাম দেয়ায় নিষেধাজ্ঞা"

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

Powered by Blogger