সমবায় সমিতির কয়েক হাজার শাখা বন্ধ হচ্ছে!

সমবায় সমিতির কয়েক হাজার শাখা বন্ধ হচ্ছে!

সমবায় সমিতি পরিচালনার জন্য কোনো শাখা অফিস খোলা যাবে না। যেগুলো আছে, সেগুলোও বন্ধ করতে হবে। প্রস্তাবিত সমবায় সমিতি আইনের '১৮ ধারার ২৩(ক)' এ কথা বলা আছে। আইনটি বাস্তবায়ন হলে দেশের সমবায় খাতে বিপর্যয় নেমে আসার আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা। তারা বলছেন, প্রস্তাবিত আইনটি বাস্তবায়ন করা হলে ৬ মাসের মধ্যে বন্ধ হয়ে যাবে সমবায় সমিতির কয়েক হাজার শাখা। এতে বেকার হয়ে পড়বেন হাজার হাজার মানুষ। ক্ষতিগ্রস্ত হবে এ খাতের দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগ। বিনিয়োগ করা মেয়াদোত্তীর্ণ ৪০ থেকে ৫০ শতাংশ টাকা ফেরত পাবে না সমিতিগুলো। তবে সরকার বলছে, সমবায়ের সুরক্ষা নিশ্চিত করতেই এই আইনি পদক্ষেপ।

জানা গেছে, গত ১১ সেপ্টেম্বর জাতীয় সংসদে সমবায় সমিতি (সংশোধন) আইন ২০১২ বিল আকারে উত্থাপন করা হয়। বিলে বলা হয়, বাংলাদেশ ব্যাংকের মনিটরিং ব্যবস্থা জোরদার ও সমবায়ীদের তহবিলের সুরক্ষার জন্য এ সংশোধনী আনা হচ্ছে। বর্তমানে পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় বিষয়ক সংসদীয় স্থায়ী কমিটিতে যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিলটি রয়েছে। এ প্রসঙ্গে সমবায়ী সমন্বয় পরিষদের সভাপতি এমদাদ হোসেন মালেক জানান, সহস্রাধিক সমবায় সমিতি সারা দেশে কয়েক হাজার শাখার মাধ্যমে শুধু ক্ষুদ্রঋণেই বিনিয়োগ করেছে ৫ হাজার ৩৪৯ কোটি টাকা। এ ছাড়া আবাসনসহ দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগ করেছে ২০ হাজার কোটি টাকারও বেশি। এ অবস্থায় বৈধ পদ্ধতিতে পরিচালিত শাখা বন্ধ করলে ৫০ লাখ লোক বেকার হয়ে পড়বে। পাশাপাশি ৯০ লাখ লোক আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে। তাই সমবায় সমিতি (সংশোধন) আইন ২০১২-এর ১৮ ধারায় সনি্নবেশিত ২৩(ক) ও ২৩(খ) ধারা বাতিল করা জরুরি। তবে পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় সচিব ড. মিহির কান্তি মজুমদার বলেন, এ আইনটি সমবায়ীদের স্বার্থ সুরক্ষার জন্য করা হয়েছে। আইনটির লক্ষ্যই হলো_ যাতে কোনো সমবায়ী প্রতারণার শিকার না হন। এই আইন প্রয়োগ হলে সমবায় খাতে যে বিপর্যয়ের আশঙ্কার কথা বলা হচ্ছে, সেটাও ঠিক নয়। তার সঙ্গে একমত পোষণ করে সমবায় ব্যাংকের চেয়ারম্যান মহিউদ্দিন মহি বলেন, সমবায় ব্যাংক ব্যতীত অন্যকোনো সমবায় সমিতি ব্যাংক শব্দ ব্যবহার করতে পারবে না। প্রস্তাবিত সংশোধনীতে এ বিষয়টি পরিষ্কার হওয়ায় অনেক প্রতিষ্ঠান সমবায়ীদের সঙ্গে প্রতারণা করতে পারবে না।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এ আইন পাস হলে বিদ্যমান সমবায় সমিতিগুলো একদিকে যেমন পুঁজি হারাবে, অন্যদিকে বিনিয়োগকারীরা তাদের আমানত ফেরত পাবে না। ফলে মারাত্দকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে ক্ষুদ্রঋণ বিতরণকারী সমবায় সমিতিগুলো। সমিতিতে বিনিয়োগ করে যে সঞ্চয়কারীরা মুনাফা নিচ্ছেন তারা আমানত তুলে ফেলবেন। ৬ মাসের মধ্যে জেলা পর্যায়ের শাখা অফিসকে নতুন সমবায় সমিতি রূপে রেজিস্ট্রেশন নিতে হলে দীর্ঘমেয়াদে বিনিয়োগ করা গ্রাহকের পুঁজি সমবায় সমিতিগুলো ফেরত দিতে পারবে না। ফলে অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির সৃষ্টি হবে।
 রুহুল আমিন রাসেল,ৈৈনিক, বাংলাদেশ প্রতিদিন. 

0 Response to "সমবায় সমিতির কয়েক হাজার শাখা বন্ধ হচ্ছে!"

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

Powered by Blogger